Header Ads Widget

Ticker

6/recent/ticker-posts

Top News

তিনমূর্তি

তিনমূর্তি






কটা ভারি মজার গল্প বলি শােনাে। নেই-গ্রামের নাম শুনেছ? এ হলাে গিয়ে সেই নেই-গ্রামের গল্প। মস্ত

বড় গ্রাম। গ্রামে কতরকমের কত লােক। তাদের মধ্যে মাত্র তিনজনের । কথা বলবাে! তিনজনেই ভগবানের সৃষ্ট অতি অদ্ভুত জীব।

একজন দিবারাত্রি শুধু চোখ পিটপিট করে, চোখের পাতায় তার কি যে হয়েছে কে জানে। এক মুহূর্ত সে চোখ না কচলে থাকতে পারে না। হরদম। দেখা যায়, হাত দিয়ে সে চোখ কচলাচ্ছে। | আর একজনের সর্বাঙ্গে দাদ। কত রকমের কত ওষুধ সে ব্যবহার করেছে কিন্তু দাদ কিছুতেই সারেনি। চব্বিশ ঘণ্টা তাকে দাদ চুলকোতে হয়।

আর একজনের মাথা-ভরা টাক। মাথায় তার চুলের নাম-গন্ধ নেই। | গ্রীষ্মকালটাকে এদের ভারি ভয়। মাথার ওপর সূর্য ওঠে, রােদূরে চারদিক। ঝা-ঝা করতে থাকে, টেকোর টাক যায় জ্বলে ঘন-ঘন মাথায় জল দিতে হয়। এদিকে রােদ্র লাগলেই দেদোর দাদ চিটপিট করে, চুলকে চুলকে হয়রান হয়ে ওঠে। চোখের পাতার ব্যারাম যার তার ত’ কথাই নেই। চোখে রােদ লাগলেই চোখ দুটো সে কচলাতে আরম্ভ করে, দেখে মনে হয় চোখদুটো যেন সে উপড়ে ফেলতে পারলে বাঁচে।

কাজেই রােদ্দুরে বড় একটা তারা বেরােয় না। অথচ মিথ্যা কথা বলতেই তিনজনেই ওস্তাদ!

যে-লােকটা চোখ পিটপিট করে, তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় হাঁহে, চোখে তােমার কোনও ব্যারাম-ট্যারাম হয়েছে নাকি? তৎক্ষণাৎ বলে, কই না! কিছু ত’ হয়নি। ও এমনি।

সর্বাঙ্গে যার দাদ, তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, “ও কিছু না! কিছুদিন আগে একটুখানি চুলকুনি হয়েছিল, কবে সেরে গেছে।”

গ্রামের একজন লােক একদিন জিজ্ঞাসা করলে, না চুলকে তােমরা থাকতে পার?"

দেদো বললে, “নিশ্চয়ই পারি! চোখে যার ব্যারাম সেও বললে, আমিও পারি। মাথায় যার টাক, তাকে জিজ্ঞাস করা হলাে, সে বললে, “টাক নেই কার বলুন তাে? আজকাল অনেকেরই দেখবেন মাথার চুল উঠে যাচ্ছে। টাক থাকলে টাকা হয়।'

লােকটা বললে, ‘তা বলিনি। দুপুরের রােদুরে তােমার কষ্ট হয় কিনা তাই জিজ্ঞাসা করছি।'

টেকো অম্লান বদনে বলে বসলাে, কষ্ট কেন হবে? কোনও কষ্টই হয় না।

তাদের এই মিথ্যা কথা শুনে লােকটার ভারি রাগ হলাে। বললে, “দাঁড়াও তােমাদের একদিন আমি পরীক্ষা করবাে।'

চোখ, দাদ আর টাক—তিনজনেই বলে উঠলাে,—“শুধু শুধু পরীক্ষা করলে ত' চলবে না দাদা বাজি রাখাে। আমরা প্রমাণ করে দেবােরােদুরে আমাদের কোনও কষ্টই হয় না।'

"আচ্ছা রাখলুম বাজি!' বলে সে একটা ভারি মজার ফন্দী করলে। বৈশাখ মাস। দুপুরের রােদ্র একেবারে আগুন বললেই হয়। বললেন, 'আয় তােরা তিনজনেই আয় আমার সঙ্গে। মিছে কথা বলা তােদের বের

এই বলে গ্রামের পাশে যে নদীটা ছিল সেইখানে তাদের নিয়ে যাওয়া হলাে। বললে, ঘণ্টাখানেক ধরে নৌকায় চড়ে আমরা এই নদীর ওপর ঘুরে বেড়াব। তােমরা তিনজনে মুদি চুপ করে বসে থাকতে পার ত তােমাদের আমি পুরস্কার। দেব পাঁচ টাকা !

মাথার ওপর রােদু তখন ঝাঁ ঝাঁ করছে। তিনজনেই একবার মুখ চাওয়া চাওয়ি করলে, চোখ পিটপিট যে করতাে সে একবার জিজ্ঞেস করলে, গল্প । করতে পাব ত?”

‘হ্যা তা পাবে। ‘ব্যস, তবে আর-কি, চলে এসাে! পাঁচটা টাকা বলে কথা।'

এই বলে’ আগেই সে নৌকোয় চড়ে বসলাে। তার দেখাদেখি শ্রীদুর্গা বলে দেদোও উঠলাে, টেকোও উঠলাে।

লােকটা নৌকা দিলে ছেড়ে!

খানিক যেতে না যেতেই খালি গায়ে রােদের তাত লেগে দেদোর দাদ উঠলাে চিড়বিড় করে। চোখ যে চুলকোয়, তার তখন হয়ে এসেছে। আর টাকের ত’ কথাই নেই। প্রতিমুহূর্তেই তার মনে হতে লাগল—মাথার খুলিটা বুঝি ফেটে গেল?

সর্বনাশ। সবাই ভাবছে, মিথ্যে কথাটা না বললেই হ'ত। কাজ নেই বাবা পাঁচটা টাকায়। তার চেয়ে একবার চুলকে নিলে বাঁচি।

টেকো একদৃষ্টে নদীর জলের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবতে লাগল—দেবাে নাকি ঝাপিয়ে ? মাথাটা তবু ঠাণ্ডা হবে।

যাক, গল্পে যখন বাধা নেই, যে-লােকটার চোখ চুলকোনাে রােগ, সে তখন গল্প আরম্ভ করলে। খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে সময়টা তবু কাটবে ভাল।

সে বলতে লাগলঃ “দ্যাখ ভাই, আমার মামার একটা ভেড়া ছিল, বুঝলি? ওরে বাবা, সে কী ভেড়া। তার শিং দুটো কিরকম ছিল জানিস? এই—এমনি। বলেই সে তার দুটো হাত দেখাতে লাগল।

‘এই মাথার ওপর থেকে বেরিয়ে, চোখ বরাবর ঘুরে এমনি করে পাক দিয়ে দিয়ে, এমনি করে পাক দিয়ে দিয়ে, ঘুরে ঘুরে এই এমনি। বুঝলি?'

পাক দেওয়া-দেওয়া ভেড়ার শিং দেখাতে গিয়ে নিলে ব্যাটা চোখদুটো আচ্ছা করে কচলে!

দেদো তখন অস্থির হয়ে উঠেছে। ব্যাটা ত’ নিলে কাজটা কোনােরকমে । সেরেছে। এখন আমি করি কি!

দেদো আর কিছুতেই থাকতে না পেরে বলে উঠলােঃ 'আরে রেখে দে ততার মামার ভেড়া। আমার এক দাদা ছিল, বুঝলি? সে যখন এমনি করে তাল ঠুকে সারা গায়ে এমনি করে'—বুঝলি? এমনি করে মাটি মেখে এমনি করে রগড়ে রগড়ে মাটি মেখে বুক ফুলিয়ে গিয়ে দাঁড়াতাে তখন কার বাবার সাধ্যি তার কাছে এগােয়! বুঝলি?'

টেকো একেবারে চুপটি করে বসেছিল। বললে, 'বুঝলুম। কিন্তু হে ভগবান! মাথা যে গেল! এখন তার কি উপায় হবে?

সে তখন কি আর করে, বললে, “দ্যাখ ভাই, আমার মামাও নেই, আমার দাদাও নেই'

বলেই সে তাড়াতাড়ি হাত বাড়িয়ে নদী থেকে অঞ্জলি ভরে জল নিয়ে তার টেকো মাথায় দিয়ে বললে, 'এই তাের মামার চরণে পেন্নাম! আর এক অঞ্জলি নিয়ে বললে, “এই তাের দাদার চরণেও পেন্নাম!” বাজি রেখে যে নৌকো চালাচ্ছিল এদের কাণ্ড দেখে সে ত’ অবাক!



এ ধরণের আরো মজার মজার গল্প পড়তে ক্লিক করুন Educational Blogs এবং Subscribe করে পাশেই থাকবেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ