Header Ads Widget

Ticker

6/recent/ticker-posts

Top News

গােষ্ঠমাসী ও কেটলীসাহেব


গােষ্ঠমাসী ও কেটলীসাহেব


funny story, Educational Blogs



আমরা, শিকারীর বংশ বুঝলি কেষ্টা! কম্বলমামা কেষ্টার দিকে সগৌরবে তাকিয়ে বললেন। স্বীকার করতেই হলাে কেষ্টাকে ঃ তা তাে বটেই। বটেই মনে?কম্বলমামা খেকিয়ে উঠলেন, অবিশ্বাস—আমার কথায় অবিশ্বাস? রে—রে দুরাচার, কুলের আচার, তবে শােন—তাের মত তালিপত্র সৈনিক অর্থাৎ শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে তালপাতার সেপাই—সে আমার কথার মর্ম বুঝবে কি? বুঝতে যদি চকা সমাদ্দার থাকতাে; তা হলে তােকে এক কথায় সমঝিয়ে দিতাে বীরত্ব কাকে বলে। আমার পিসতুতাে কাকী এক লাফে এক উড়ন্ত কাক ধরে তার নামে কৌটোর খাপ পরিয়ে দিয়েছিলেন। আমার কাকা বাড়ীর ঘুমন্ত কুকুরকে মারবার জন্য তিনটে গুলি ছুঁড়েছিলেন, শেষে বাঁশ দিয়ে সেটাকে পিটিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হলাে।
আর আমার শ্যামনগরের পিসীমা ? বলবাে কি কেষ্টা, ঝাটা দিয়ে পিসী একটা খ্যাকশেয়ালী ঘায়েল করলেন। এখন তুই চিন্তা কর আমাদের কথা—তােকে আধ ঘণ্টা সময় দিলাম। কম্বলমামা হাতের ঘড়ির দিকে চেয়ে রইলেন। শিকারে খুব সাহস দরকার।খুব গম্ভীরভাবে বললে কে।। সাহসের কথা যদি বলিস কেষ্টা, তবে শুনে নে আমার মেজ মাসী গােষ্ঠামােহিনীর কথা। কথায় বলে—যার দাপটে বাঘে গরুতে এক ঘাটের জল খায়। গােষ্ঠমাসী তাই করাতেন।

তিনি থাকতেন চুটিয়াপাড়ার গভীর জঙ্গলে। চুটিয়াপাড়া? সেটা আবার কোথা? অফ্রিকায় বুঝি? কোথায় তা দিয়ে তাের দরকার কী? গল্পটা হচ্ছে সাহসের, তার মধ্যে কেবল ঘ্যানঘ্যান করছে—কোথায়? কোথায় আবার,-তাের মাথায় ! কেষ্টা নিজের মাথায় একবার হাত বুলিয়ে নিয়ে বললেঃ বলাে বলাে, আর জিজ্ঞাসা করবাে না। সেখানে ছিল গভীর জঙ্গল। অসংখ্য বুনাে জন্তু—এই ধর বাঘ, সিংহ, হাতী, ঘােড়া, উট সব অত জঙ্গলে মিছিমিছি উনি কষ্ট করে যেতে গেলেন কেন?—কেষ্টা আবার জিজ্ঞাসা করলাে। গেছে তাে গেছে, বেশ করেছে। তাের তাতে কি রে?—কম্বলমামা বেশ চটে। উঠলেন, গেছে আমার মাসী গেছে—তাের মাসী তাে যায় নি। সত্যিই কেষ্টার মাসী কোথাও যায় নি। এমন কি গঙ্গা নাইতে কাশীতেও না! শুধু একবার গােবর আনতে আমবাগানের মাঠে গিয়ে সেই যে একটা গুতােনাে গরুর ভয়ে পালিয়ে এসেছেন সেই থেকে গােবরের পবিত্র কাজ ঘুটেতেই সারেন; কাজেই তার সাহসের কথা কেষ্টার আপাততঃ কিছুই মনে না পড়াতে সে চুপ করে গেল। আমার গােষ্ঠমাসীকে একবার শুটকো সাহেব বলেছিলেন খুশী হয়ে—গােষ্ট আটি, তােমাকেই প্রকৃতপক্ষে বীরাঙ্গনা বলা উচিত।

আমি যখন আবার চুটিয়াপাড়ায় আসব তখন তােমাকে আমার চাই-ই। তােমার সঙ্গে আমি শিকারে যাবাে। মাসীও স্বীকার করেছিলেন। সে অনেক দিনের কথা। একদিন দুপুরবেলা মাসী লাঠি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে ছারপােকা মারছেন, দরজায় সেই কণ্ঠস্বর শােনা গেল—গােট আটি—আমি কেটলী সাহেব। ওমা, এস বাবা এস।মাসী স্বাগত জানালেন। আটি, তৈরী হয়ে নাও। আমরা ওই বনে শিকারে যাবাে, তাঁবু ফেলেছি। গােষ্ঠমাসী হাতের লাঠি খাটিয়ার ওপর রেখে খানিকটা গালে হাত দিয়ে ভাবলেন। তারপর বললেন—তা ভালােই। এলিনর রুজভেল্ট ছিলেন কতবড় শিকারী—আমিই বা কম কিসের? বেশ, যাবাে। সাহেব বিকেলবেলা মাসীর উঠোনে এসে চমকে গেলেন। এ কি রণসজ্জা? পায়ে সুপুরীর ডােঙর চটি—সে আবার খুব শক্ত করে নারকেলের দড়ি দিয়ে বাঁধা পরণে গেরুয়া ধুতি, গায়ে নামাবলী। টিকিতে একটা জবাফুল বাঁধা আর হাতে একগাছা মুড়াে ঝাটা। বাঁ হাতখানা কোমরে রেখে মাসী তিলের নাড়ুর মত দুর্ভেদ্য মুখ করে দাঁড়িয়ে আছেন।
তাকে প্রথম দেখেই কেটলী সাহেব আমড়ার আঁটির মত ছটকে গেলেন কিন্তু বলেত হবে সাহেব—ওদের গো-ই আলাদা। তখনি বেশ একটা ভিরমি হাসিমুখে সামলে নিয়ে কুলের আচারের মত মিষ্টি মুখ করে বললেনবাঃ গােস্ট আটিকে তাে বেশ লাগছে।—শুটকো সাহেব চি-চি খক-খক হুয়াহুয়া করে হেসে উঠলেন। গােষ্ঠমাসী চিড়েভাজার মােয়র মত আরাে কঠিন হয়ে গিয়ে বললেন—আর হি হি করতে হবে না চিংড়ী অবতার, এখন চল তাে দেখি। গভীর বন। শাল, তাল-তমাল, পিয়াল এসব ভালাে ভালাে কবিদের ভালাে লাগবার মত গাছের সঙ্গে সঙ্গে পিণ্ডিখেজুরের মত লেপটে রয়েছে জিকে, আম, জাম, কাঠাল বিছুটি ইত্যাদি। অরণ্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথপাশে পাশে গিরিমালা।

পাহাড়ও বুঝি ছিল সেখানে কেষ্টা বিস্ময় প্রকাশ করে। ছিল বৈ কি! গিরি ছিল, গিরিমালা ছিল, রুদ্রাক্ষের মালার মত জড়িয়ে; তার মধ্যে ছিল প্রস্রবণ— উঃ রেবাবাঃ| বাবা কিরে! এরপর যখন গল্প আরম্ভ হবে তখন বলবি ঠাকুরদাদা’! গােষ্ঠমাসী তাে চলেছে। পিঠে একটা প্রকাণ্ড বস্তা। ওটা কী গােস্ট আনটি—এটা আবার কোথা থেকে জোটালে?—সাহেব। বললে। চুপ কর তাে বাছা! সব কথা কী তােমার ওই বাদুড়-চোষা শুটকো মগজে ঢােকে? শুধু দেখ কী করে গণ্ডার শিকার করতে হয়। দেখে তাজ্জব হবি। তাের ও কচুগাছের মত বন্দুকের কাজ নয়, এ বুদ্ধির দরকার বলেই গােষ্ঠমাসী টিকিসুদ্ধ জবাফুলটাকে পটাস কৱে দুলিয়ে দিলেন আর ওটা সশব্দে কপালে এসে লাগলাে। সাহেব উচ্চিংড়ের মত লাফিয়ে সরে গেলেন। সন্ধ্যেবেলায় ওরা ক্যাম্পে এসে খানিকটা বিশ্রাম করে নিলাে।
চারদিকে নিবিড় অন্ধকার কালো কালাে হয়ে রয়েছে, টিপটিপ করে জোনাকী দুলছে,—ঝিঝিটা একটানা ঝনঝনি বাজিয়ে অরণ্য-সঙ্গীত গাইছে। | গােষ্ঠমাসী ক্যাম্পের খাটিয়ার ওপর বসে বললেন—কি রে ছারপােকা-টোকা নেই তাে? মাসী, নুতন খাট দেখছে না!--সাহেব বললেন। তবে একটু গড়িয়ে নিই। আজ আবার একাদশী কি না!—বলেই ব্ল্যাক থেকে । প্রকাণ্ড তামাকপাতা-পোড়ার গুঁড়াে দাঁতে ঘসে বস্তাটা মাথায় দিয়ে শুয়ে পড়লেন। শিকারে যাবে না মাসী?—শুটকো সাহেব চি চি করে বললেন। তােরাই আজ যা; পরে তাে আমি যাবােই।মাসীর আদেশ শােনা গেল।

কিন্তু সাহেব জেদ ধরেছে—যাবেই যাবে এই রাতেই যাবে যুদ্ধে। সাহেবদের , এইসা গো কী বলব! অনেক করে বুঝিয়েও কিছু করা যায় না। শেষে দুটো কুলি, এক ফ্লাস্ক চা, খানিকটা বিস্কুট-এসব নিয়ে তামাটে দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে সাহেব বনে রওনা হলেন। খানিকটা দূর এগােতেই একটা মস্ত কোলাব্যাঙ তার ছেলেপুলেদের নিয়ে জলার ধারে বসে জোনাকীর প্রদীপ জ্বেলে কচ্ছপের টেবিলের ওপর বই রেখে। পিপড়ে আর পিপড়ীর গল্প পড়ে শােনাচ্ছিল। শুটকো সাহেব পাশ দিয়ে যেতেই সে চোখের চশমা নাকে চড়িয়ে বললে—ওটা আবার কে যায়।—সাপ-টাপ তাে নয়?—আর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙের তিন ছেলে ছড়া কেটে বললে শুটকী চামচুটকি সিঙ্গী মাঝের ঝােল শুটকীর টিকি ধরে তােল। ভারি বেয়াদব ছেলেদের একটা ধমক দিয়ে ব্যাঙ বললে—এই রাতে চলছে শিকার করতে! ছােঃ সাহেব বললেন—কী বলে রে ওরা? ও সব বাজে কথায় কান দেবেন না সার, চলুন।
বনবেড়ালের দল, হায়েনা, ইদুর ছুটে পালালাে। ওদের দেখে কিন্তু সাহেব কিছুতেই ভয় পেলেন না, বন্দুকটাকে শক্ত করে ধরে হেঁটে চললেন। | দুটো জলা পেরিয়ে ওরা একটা বড় গাছের ওপর চড়ে বসলাে। এখানেই জন্তুজানােয়ারের প্রধান আড্ডা কিনা, তাই। একটা কিছু ঘটবে বা ঘটতে যাচ্ছে ভেবে কেষ্টার চোখের তারা দুটো রাজভােগের মত আকার নিলাে, বললে ? তারপর? | তারপর সব জন্তুদের মিটিং বসবে। একটা খেকশেয়াল হােয়া হােয়া করে তা প্রচার করে দিয়ে গেল। সভা বসবে, তাই ছােট ছােট বাচ্চার দল ভির করেছেখরগােসরা ছুটোছুটি করছে। দূরে জলার পাড়ে হরিণরা লক্ষ্য করছে ব্যাপারটা কী ঘটতে যাচ্ছে। মাইক বসেছে।

কচুফুলের মালা গেথেছে হনুমানের দল 'ভাপতি সিংহ আর উদ্যোক্তা জিরাফ। সবাই এসেছে। হাতী, বাঘ, সিংহ, হায়েনা--কেউ বাদ নেই। হায়েনারা চকের মত হি-হি করছে এমন নয়া স্যপতি বললেন—একটা বেশ , গন্ধ পাচ্ছি—বেশ চপ-কাটলেটের মত। সাহেবের তাে মুখ শুকিয়ে গেছে। গলা দিয়ে হেঁচকি উঠছে—হিক—হিক হিক,গুপ্তচরগুপ্তচর!—জিরাফ অমনি তার আঁকশির মত গলাটা গাছের দিকে প্রসারিত করতে লাগলাে। | সাহেব যতই ওপরে ওঠেন জিরাফ ততই গলা লম্বা করে। সভার মধ্যে হাসির বন্যা বয়ে গেল—হি, হি—হে, হে-হেউ হেউ। হাত নােরা এ ওর গায়ে চিমটি কেটে হাসতে লাগলাে। সে কি হাসি! শেষে আর উপায় নেই দেখে সাহেব বললেন—আমার কুলিরা পালিয়েছে, আমায় মেরাে না। আমার বন্দুক পড়ে গেছে—পােটলা-পুটলী হারিয়ে গেছে বাজে বকিস নিবলেই সিংহমশায় একটা হুঙ্কার দিলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে ভালুকের দলের সে কি উৎসাহ! তারা শালুক খায় আর বলে–টেনে নামা টেনে নামা। * জিরাফ আঁকশির মত গলা দিয়ে পাকা আমটির মত কেটলী সাহেবকে পেড়ে ফেললে।। তারপর—তারপর?—কেষ্টা বললে।

তারপর আর কী একেবারে দুম্বা হুম্বা নাচ শুরু হয়ে গেল চারদিকে। সকালে আলাে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তেই সেই কুলি দুটো লাফিয়ে উঠলাে এঁদো পুকুর থেকে। তারপর নাক-কান থেকে ব্যাঙাচিগুলাে ঝেড়ে ফেলে ছুটে খবর দিলাে—নিদারুণ সংবাদ, যুদ্ধে কেটলী সাহেব বন্দী। | শুনে গােষ্ঠমাসীর টিকি রাগে অপমানে তরমুজের বোঁটার মত খাড়া হয়ে উঠলাে। তিনি হুঙ্কার ছাড়লেন—হরি-হরি! এসব শুকনাে লঙ্কা নিয়ে গণ্ডার শিকারে আসা ? ছি—ধি ওর জীবনে। ওরা ওকে শুতনী বানিয়ে খাক—আমি কিছু বলবাে না। কিন্তু কুলি দুটো কেঁদে পড়লাে—মাইজী— তােমার গােষ্ঠমাসী তবে কি শিকারী?—কেষ্টা বললে। আরে তাই তাে বলছি—শােন না। মাসী সন্ধ্যের আগেই সবাইকে ঠিক করে নিলেন। তারপর নিজে সেজেগুজে তৈরী হয়ে চললেন বনের ভেতরে। পেছনে চলেছে মুটের মাথায় সেই বস্তা—আর মাসীর পায়ে সেই সুপুরীর খােলার চটি নারকোল দড়ি দিয়ে বাঁধা।
পরণে গেরুয়া ধুতি আর নামাবলী আর হাতে বন্দুকের মত করে ধরা ঝাটা। * বনের মধ্যে ঢুকতে ঢুকতেই অন্ধকার হয়ে এলাে। কিন্তু একটু সাড়া-শব্দ নেই। মাসী বললেন—ওরা এখন বসেছে কেটলী সাহেবকে সায়েস্তা করতে। তাড়াতাড়ি এগিয়ে চল। বনের ভেতরে আবার সেই জায়গা। মাসী একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে সভা বসেছে। টোড়া সাপের দড়ি দিয়ে উটের সঙ্গে সাহেবকে শক্ত করে বেঁধেছে আর মাঝে মাঝে প্রশ্ন করছে—তােরা আমাদের চিড়িয়াখানায় বন্ধ করে রাখিস কেন? তােদের আমরা কী করেছি? কেটলী সাহেবযেন কী বলতে গেলেন, কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বেরুলাে না। | ডােরা বাঘের দিকে আঙুল দেখিয়ে সিংহ বললে—ওকে তিন মাস আগে খাঁচায় বন্ধ করে কলা দেখিয়েছিস আর ছােলা ভিজে খেতে দিয়েছিস? আমি না স্যার—ওটা বিন্টুর কাকা।

হােক বিন্টুর কাকা—তাকে তাে আর পাওয়া যাচ্ছে না! এর মধ্যে গােষ্ঠমাসীর ইসারায় কী যেন কাজ চলছে নিঃশব্দে। কেউ জানতে পারছেন না কিন্তু। ধীরে ধীরে ওরা কি যেন করছে। তােরা এই নিরীহ ছেলেমানুষ বাঁদরগুলােকে ফ্রক পরিয়ে ফুলমণি আর গােপালবাবু সাজিয়ে দরজায় দরজায় নাচাস। আর তােদের বকাটে ছেলেগুলাে। ছড়া কাটে-বদর, কলা খাবি? আজ আমরা তােদের সমস্ত দুর্ব্যবহারের প্রতিশােদ নেবাে। আমরা তােকে তেঁতুলগােলা, কাঁচা লঙ্কা, নুন আর লেবুর রস দিয়ে ছােলা ভিজার সঙ্গে মিশিয়ে খাবাে। দেখি তােকে কে বাঁচায়? বললে সিংহ।
বলার সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত বনের ভেতরে আগুন জ্বলে উঠলাে শুকনাে পাতায়। আর সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাচ- -ফ্যাচ আওয়াজে সমস্ত বনভূমি কম্পিত হয়ে উঠলাে। সবাই যে যার প্রাণ নিয়ে পালাচ্ছে। সজারু এতক্ষণ এল কোণায় বসে গায়ের কাটা দিয়ে ছেলের গায়ের সােয়েটার বুনছিল, সে হঠং দু’হাত দিয়ে খুচ-খুচ করে নাক ঘসে হাঁচলাে-হাচো—হাচো| গােষ্ঠমাসী বস্তা ভরে তামাকপাতা এনেছিলেন, সমস্ত বনে তাই ছড়িয়ে তাতে আগুন দিয়েছেন—আর রক্ষে আছে? 

কেটলী সাহেব চারদিকে তাকিয়ে দেখলে সে মুক্ত, সবাই পালাচ্ছে যে যার মত। আর দূরে একটা পাথরের ওপর হিটলারের মত গোফহীন গােষ্ঠমাসী বসে। বসে মালা জপ করেছেন। আর কুলির দল আনন্দে নাড়গােপালের মত গদগদ হয়ে বসে বসে গান ধরেছে—মৌসীকী হিম্মত দেখাে কেটলী সাহেব পড়ে কি মরে মাসীর কাছে ছুটে এসে প্রণাম করে বললেনধন্যি মেয়ে তুমি মাসী। তােমায় গড় করি। হরি-হরি!—মাসী কপালে হরিনামের ঝােলা ঠেকালেন। সেই শুনে কুলিরা ছুটে এসে গােষ্ঠমাসীকে ঘিরে নাচতে লাগলে—হরিবােল হরিবােল সাহেব বললেন—হরিবল—গােস্ট আনটি—হি-হি-হুরে!


এ ধরণের আরো মজার মজার গল্প পড়তে ক্লিক করুন Educational Blogs এবং Subscribe করে পাশেই থাকবেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ