নাক নিয়ে নাকাল
আপনার কী অভিযােগ বলুন তাে। হেডমাস্টারমশাই ড্রিলমাস্টারের দিকে তাকালেন। ইস্কুলের বেয়ারাও আড়চোখে তাকাল তার দিকে।
ড্রিলমাস্টারমশাই বিরূপ দৃষ্টিতে কার দিকে যে তাকান বােঝ যায় না ঠিক।
‘অভিযােগ এক নম্বর, ড্রিলে ফাকি দেওয়া; দু'নম্বর, অবাধ্যতা; তিন নম্বর, আমার বদনাম রটানাে'—তিনি বলতে থাকেন। | ‘বদনাম রটানাে! বলেন কি মাস্টারমশাই, ইস্কুলের ছেলে হয়ে সেই ইস্কুলের মাস্টারের নামে বদনাম রটাবে?”
হেডমাস্টারমশায় একটু অবাক হন। অবাক হয়ে তাকান আমার দিকে। বেয়ারাটাও আমার দিকে তাকায়। , ড্রিলমাস্টার আমার দিকে তাকান না। বলে যান, 'বদনাম মানে, আর কিছু বদনাম না আমার নাম বদলে দেয়া। আমার নাম—আমার নাম—'
‘জানি আমরা। বলতে হবে না। রণ-দুর্মদ বড়ুয়া। “আজ্ঞে হ্যা। সবাই জানে। কিন্তু ঐ ছােকরা আমার নামের প্রতি কটাক্ষ করে—নাম না বলে নাক বলাই উচিত—আমার নাকের প্রতি কটাক্ষ করে হেডমাস্টারমশাই বাধা দেন নাকের প্রতি কটাক্ষ ? কিন্তু নাক আপনার কই মাস্টারমশাই, যে নাকের প্রতি কটাক্ষ করবে?
হেডমাস্টারমশাই ড্রিলমাস্টার মশায়ের দিকে তাকান—তার নাকের দিকে তাকিয়ে থাকেন। | বেয়ারাও তাকায়—তারও নাকের দিকেই তাক। •
আমিও তার নাসিক শহরে লক্ষ্য রাখি। তাকিয়ে দেখবার মতই একটা জিনিস ছিল তার নাক। নাক তার ছিল না।
একেবারে যে ছিল না তা নয়। ছিল, তবে নামমাত্র। দর্শনীয় ঐ বস্তুটি যথাস্থানে। যথােচিত পরিমাণে না থাকার জন্যেই তিনি দ্রষ্টব্য হয়েছিলেন। সেই কথাই তাে বলছিলাম, ড্রিলমাস্টারমশাই বলেন : ‘ছেলে মহলে আমার নাম রটেছে নাগেশ্বর। নাকেশ্বর ওরফে নাকু। ওরফে আরাে সব কী যেন! কাণাঘুষায় কথাটা কানে এসেছে আমার। আর আমি বুঝতে পেরেছি, এ কাজ আর কারাে নয়, এ হচ্ছে—এ হচ্ছে ওর.....ওরই—' | হেডমাস্টার বলেন—“কিন্তু আপনি তাে হােস্টেল সুপারিন্টেণ্ডেন্ট। হােস্টেলে থেকে ছেলেদের এতবড় বুকের পাটা হবে বলেন কি! দেখি, দেখি তাে রেজিস্টারী বইটা—দেখি ওর ড্রিলের রেকর্ড। কদিন ড্রিল কামাই করেছে দেখা যাক।'
হেডমাস্টারমশাই ড্রিলের রেজিস্টারি খাতা দেখেন।
বেয়ারাও হেডমাস্টারের কাঁধের ওপর দিয়ে তফাৎ থেকে দেখার চেষ্টা করে—আমার রেকর্ড। ড্রিলমাস্টার কী দেখেন তিনিই জানেন।
এ ছাড়াও আমার আরেকটি অভিযোেগ আছে। গুরুতর অভিযােগ! আমাকে মারবার চেষ্টা, এমন কি, মারাই বলা উচিত। হােস্টেলের বারন্দাটা অন্ধকার জানেন বােধ হয়? রােজ সন্ধ্যার পর বাইরে থেকে বেড়িয়ে ফিরি—ঐ বারান্দা দিয়েই। বারান্দায় কলা খেয়ে খােসা ছড়িয়ে রাখা ওরই কাজ, ও আর কারাে নয়। কাল সন্ধ্যায় ফেরার সময় বারান্দায় কলার খােসায় আমার পা পড়লাে। পা হড়কে আমি পড়ে গেলাম। | ‘এর জন্য ওর প্রতি সন্দেহ হবার আপনার হেতু?' হেডমাস্টারমশাই প্রশ্ন করেন। কলা কি আর কেউ খায় না? কলা খাওয়ার হেতু ..... হেতু ......' তিনি বলতে যান।
ভাষায় যােগাচ্ছে না দেখে আমি—আমিই তার হয়ে যােগ করি—“হেতু? হেতু আর কি, নাকামাে।
কিন্তু হেডমাস্টারমশায়ের সামনে গলা দিয়ে গলানাে যায় না বলে আমার। কথাটা কানেই যায় না করাে।
‘আমার পতনের সময় ও ওইখানেই ছিল। কী করছিল ও সেখানে? মজা দেখবার জন্যই ওৎ পেতে ছিল নিশ্চয়ই। | ড্রিলমাস্টারমশাই নিজের কারণ ব্যক্ত করেন। আমাকে নিপাত করার জন্যই ওর কলার খােসা ছড়িয়ে রাখা—আমি হলপ করে বলতে পারি। আর শুধু তাই নয়, আমি আছাড় খাবার পর, তার ওপর, আমার সঙ্গে ইয়ার্কি মারতে আসা।' তাঁর অভিযােগের ওপর অভিযােগ।
“কি রকম?” ঠিক যে রকম কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে। নেমকহারামি যাকে বলে! আমাকে এসে বলা হচ্ছে, ‘আহা, আপনি পড়ে গেলেন স্যার? শুনেছিলাম, বেড়ালে অন্ধকারে দেখতে পায়।' আমি বললাম, আমি কি বেড়াল?' ও বলল, 'আহা, তা' কেন আপনি তাে বেড়িয়ে ফিরছেন। সেই কথাই বলছিলাম আমি! বেড়ালে তাে অন্ধকারে দেখতে পায় এইরকম আমার শােনা ছিল শুনুন ওর কথা জটপাকানাে কথার ছিরিটা দেখুন একবার! কথায় কথায় কেমন তালগােল পাকিয়ে বসে আছে।'
'তাই তাে দেখছি।
হেডমাস্টারমশাই দেখেন বেড়ালরা বেড়ায় তাই বলে বেড়ালেই কিছু বেড়াল হয় না। যে বেড়ায় সেই কখনাে বেড়াল নয়। হেডমাস্টারমশাই ঘাড় নাড়েন। বেয়ারা কিছু বলে না, কেবল ঘাড় নাড়ে। ড্রিলমাস্টারমশাই আপাদমস্তক আপনাকে নাড়েন : নয়ই তাে। সেই কথাই তাে বলছি। আমার প্রতি ওর বিহেভিয়ারটা দেখুন—দেখলেই বুঝবেন মােটেই ভাল নয়। প্রথম, আমার নাক দিয়ে নাকাল করার চেষ্টা—ছাত্রমহলে আমার মর্যাদাহানি—আর যেহেতু নাকের সঙ্গে আমি জড়িত, কিংবা নাক আমার সঙ্গে জড়িত, সেই হেতু নাকের অমর্যাদায় আমারই অসম্মান; তারপরে ঐ কলার খােসা। ওর এই সব আচার-ব্যবহারের পর আমার প্রতি আমার প্রতি ওর ঐ—ঐ' ড্রিলমাস্টারমশায়ের আবার আটকায়। " ‘ঐ আছাড় ব্যবহার! আমাকেই বলে দিতে হয়।
‘হ্যা, এবং তারপর, এবং ঐখানেই না থেমে তার ওপরে আবার আমার নামে যাচ্ছেতাই করে নিজের বাড়িতে লেখা—'
‘বাড়িতে লেখা? আপনার বিষয়ে আবার বাড়িতে লেখার কী থাকতে পারে মাস্টারমশাই একটু বিস্মিতই হন।‘আজ্ঞে হ্যা, তাইতাে বলি : মাকে লেখা ওর সেই চিঠি—মনে হয় কাল রাত্রের লেখা, ওর বিছানায় পড়েছিল—আজ সকালে কি কাজে ওকে ডাকতে ওর ঘরে যেতেই চিঠিখানা আমার নজরে পড়ল। সেই পত্রে, আমার নামে, এই ইস্কুলের নামে বিস্তর কুৎসা করা হয়েছে দেখলাম।
‘ইস্কুলের নামে কুৎসা করে বাড়িতে লেখা? তাহলে তাে সত্যিই ভারী খারাপ!' হেডমাস্টারমশাই আমার দিকে তাকান।
বেয়ারাও আমার দিকে তাক করে।
আমি ড্রিলমাস্টারের দিকে তাকিয়ে থাকি। তিনি কোনদিকে না তাকিয়ে গড় গড় করে গড়িয়ে যান—“আজ্ঞে হ্যা। সেই চিঠিতে লিখেছে আমি নাকি ড্রিলের ছলনায় ছেলেদের কেবল নাজেহাল করি ওঠ-বােস করিয়ে করিয়ে এমন করি যে তাতে নাকি ওরা একেবারে শুয়ে পড়ে। তাছাড়া ওর ওপরই আমার নাকি বেশি আক্রোশ—ড্রিলের নাম করে রােজ নাকি ওকে আমি পাঁচক্রোশ করে হাঁটাই। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে পা ফেলে পা তুলে এই হাটনিটা ওকে হাঁটতে হয়। আমার যত রাজ্যের ফরমাস খেটে খেটে বেচারা কাহিল। আমার মত ময়লা কাপড়-জামা রুমাল কামিজ—“বলতে বলতে ড্রিলমাস্টারমশাই থেমে যান।
বলুন বলুন। থামলেন কেন? গােপন করবেন না কিছু।' * না, গােপন করার কি আছে?” বলে একটু আমতা আমতা করে ড্রিলমাস্টার বলেনঃ আমি নাকি ওকে দিয়ে আমার যত ময়লা কাপড়, জামা, পায়জামা, পিরান, কুর্তা, কামিজ, রুমাল, গেঞ্জি, সালােয়ার, বালিশের ওয়াড়, চাদর—চাদর আবার দুরকম—গায়ের এবং বিছানার—বােম্বাই এবং এডির—এই সব ওকে দিয়ে কাচাই।
হরদম কাচাই, দম ফেলতে দিই না। লিখেছে লিখুক, তাতে আমার দুঃখ নেই, কিন্তু এমন করে লিখেছে—এমন এক বিচ্ছিরি ভাষায়—যে তাতেই আমি আরাে বেশি আঘাত পেয়েছি।'
কী রকম ভাষা?’ হেডমাস্টারমশাই জিজ্ঞেস করেন। বেয়ারা কিছু না জিজ্ঞেস করেই নিজের আগ্রহ প্রকাশ করে।
‘ভাষা? সে ভাষার কোনাে মানে হয় না, মাথামুণ্ড নেই, বােঝা যায় না। কিছু! তাতেই আমি আরাে মর্মাহত হয়েছি! লিখেছে যে রাতদিন ওই সব কাচতে কাচতে ও হদ্দ হয়ে গেল।
তার ওপরে এই কাচা কাজকে রােদে শুকিয়ে ইস্ত্রি করে পাকা কাজ করা আরেক হাঙ্গাম্। আরাে লিখেছে যে—না, সে-কথা মুখেই আনা যায় না। ‘কোনাে খারাপ কথা ?” ‘বােধহয় খারাপ কথাই। মনে ঠিক বােঝা যায় না বটে, তাহলেও তাই আমার মনে হয়।' ‘তাহলেও বলুন। দরকার আমার। হেডমাস্টারমশাই জানান।
জানাটা যে বেয়ারারও প্রয়ােজন, তার হাবভাবে সেটা ব্যক্ত করে। বেয়াড়া কৌতুহল ছাড়া আর কি?
আজ্ঞে, লিখেছে যে....লিখেছে ঐ ইস্ত্রি করার বিষয়েই। লিখেছে যে ইস্ত্রি আবার ড্রিলমাস্টারমশায়ের নিজের না, পাশের ধােপার বাড়ি থেকে ধার করে। আনতে হয়। তাহলেও, পরের ইস্ত্রি নিয়ে এই টানাটানি করাটা কি ভাল? কখনােই ভাল নয়। এই ছােটবেলা থেকেই যদি ওকে পরের ইস্ত্রি নিয়ে টানা-হ্যাচড়া করতে শেখানাে হয়........' “টানা-হাচড়া?' কথার মাঝখানে হেডমাস্টারমশায়ের হ্যাচকা টান। “আজ্ঞে হ্যা। আমি ঠিক ওর ভাষাই ব্যক্ত করছি। চিঠির মর্ম ঠিক না বুঝলেও, আজ সকালেই এতবার করে পড়েছি যে কথাগুলাে আমার প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে।
চিরকালের মতই আমার মর্মে গাঁথা হয়ে গেছে।
ড্রিলমাস্টারমশায় নিজের মর্মগাথা গান করেন । লিখেছে যে, বাল্যকালেই যদি এই ভাবে পরের ইস্ত্রি নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে হয় তাহলে এই বয়সেই ওর চরিত্র ভয়ানক ক্ষণভঙ্গুর হয়ে যাবে।
‘কাপড় কাচার সঙ্গে চরিত্রের কি? উভয়ের মধ্যে সম্বন্ধ কোথায় ? হেডমাস্টারমশায়ের জিজ্ঞাসা।।
ড্রিলমাস্টারের জবাব ঃ ‘আমি—আমিও তাই ভাবি। কিন্তু ও যা লিখেছে তাই আমি বলছি। ওর মতে কাচা কাজ নাকি চরিত্রকে কাচিয়ে দেয়। কাপড় আছড়াতে আছড়াতে পিঠের শিরদাড়া বেঁকে যায় নাকি—যার অপর নাম মেরুদণ্ড। আমার কাপড় কাচতে গিয়ে ওর সেই মেরুদণ্ড কাহিল হয়ে পড়ে; আর চরিত্রকে খাড়া রাখতে শিরদাড়াই হচ্ছে আসল। মেরুদণ্ডের জোরেই মানুষ চরিত্র রক্ষা করে। মেরুদণ্ডের মধ্যেই নাকি আসল মজা।
মজ্জা? আঁ?' • ‘মজ্জা কি মজা কী লিখেছে ওই জানে! আমি ঠিক বলতে পারব না এমন জড়ানাে পাকানাে লেখা যে পড়া দায়। যাক যা বলছিলাম। এই কাচা কাজ থেকে আর ঐ ইস্ত্রির ব্যাপার নিয়ে ওর চরিত্র নাকি কেঁচে গিয়ে কাচের কাজ হয়ে দাঁড়াবে। আর তা হলেই ওর বয়ে যাবার দারুণ সম্ভাবনা। কেননা, চরিত্র যদি একবার কাঁচের মত স্বচ্ছ নির্মল আর সুন্দর হয়—মানে সেই রকম পরিষ্কার হয়ে যায়, তাহলে আপাতমনােহর সেই আদর্শ চরিত্রের ন্যায় ক্ষণভঙ্গুর এ পৃথিবীতে নাকি আর কিছুই নেই। |
‘মানে কী এর?' হেডমাস্টারমশায় নিজেও ঠিক বুঝতে পারেন না। বেয়ারাও হাঁ করে থাকে। | ‘তাই কে বলে!' ড্রিলমাস্টার বলেন—এছাড়াও আরও লিখেছে যে আমি যদি এই সবের কাচাকাচির ওপর ফের আবার কম্বল, সতরঞ্চি, লেপ, তােশক, বালিশ, বিছানা, পাপােশ, সুটকেশ, বাক্স-প্যাটরা প্রভৃতি ওকে কাচতে দিই— তাও দিতে পারি নাকি—আর ওকে যদি এইভাবে পুনঃ পুনঃ ধােপার মত ব্যবহৃত হতে হয়, তাহলে ও নাকি বেশিদিন এখানকার ধােপে টিকবে না। একেবারে গাধা বনে যাবে। বিস্তারিত করে এই সব কথা লিখেছে, ওর বাড়িতে। “কই, দেখি সে চিঠি। হেডমাস্টার মশায় হাত বাড়ান। বেয়ারা হাত বাড়ায় না, মুখ বাড়ায়। ড্রিলমাস্টারমশাই চিঠিটা পকেট থেকে বার করেন।
হেডমাস্টারমশাই পড়তে থাকেন গড়গড় করে। বেয়ারা কান খাড়া করে শশানে। ড্রিলমাস্টারের কানেও কথাগুলাে গড়িয়ে আসে। ‘শ্রীচরণকমলেষু, মা, তুমি আমার জন্য মােটেই ভেব না। আমি এখানে দিব্যি আরামে আছি। চমৎকার এখানকার স্বাস্থ্য, আবহাওয়া আর বন্ধুরা। হােস্টেল আর মাস্টারদের তুলনা হয় না। আর আমাদের ড্রিলমাস্টারমশায়—এমন উপাদেয় যে কি বলব! আমাদের ড্রিলের আর শরীরের দিকে ওঁর খুব নজর। অন্য মাস্টারদের পড়া করতে হয় কিন্তু ড্রিলমাস্টারমশায়ের খালি প্যারেড। তার জন্যে মােটেই পড়তে হয় না, খালি পার aid লাগে। পায়ের সাহায্য নিতে।
আর আমাদের হেডমাস্টারমশাই এত ভাল যে একরকম আমি জীবনে দেখিনি। অবশ্যি, হেডমাস্টার আমার নশ্বর জীবনে আমি খুব কমই দেখেছি হেডমাস্টার একটি বালকের জীবনে অতি বিরল। কখনও কাকের মতন ঝাকে ঝাকে দেখা দেয় না, তাহলেও আমি বলব আমাদের মত হেডমাস্টার আর হয় না।
আমার দৃঢ় ধারণা শীঘ্রই তিনি কোনাে কলেজের প্রিন্সিপ্যাল হয়ে যাবেন। এমন কি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হলেও সেটা অত্যুক্তি হবে
। আমি তাে মােটেই একটুও আশ্চর্য হব না। তিনি একজন গ্রেটম্যান—আর গ্রেটম্যানের ইতিহাসে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান লাভ করতে বাধ্য।
তুমি কেমন আছাে? তােমার জন্য ভাবিত আছি। শ্রীমান টম আর সত্যকে আমার ভালবাসা জানিও। শ্রীচরণে শতকোটি প্রণামপূর্বক। ইতি
| তােমার স্নেহের।
রাম চিঠি শেষ করে হেডমাস্টারমশায় চোখ তুলে তাকান। তাকান আমার দিকে। বেশ স্নিগ্ধচক্ষেই তাকান।
ড্রিলমাস্টারও চেয়ে থাকেন—চোখ বিস্ময়ের বােঝা নিয়ে বেয়ারাটাও তাকায়—যদিও ঠিক তাক পায় না। তার যেন কিছুটা কৃপাদৃষ্টির মতই, কিন্তু কার প্রতি যে বােঝা দায়।
‘কই, এ চিঠির ভেতর তাে স্কুলের বা কারাে কোনাে কুৎসা দেখলাম না। কুৎসিত কিছু পেলাম না তাে। আপনার সম্বন্ধেও তাে খারাপ কিছু লেখেনি।
আর—আমার সম্বন্ধে—সে সম্বন্ধে আমি কিছু বলতে চাই না। আপনার ধারণা ঠিক নয় দুর্মদবাবু অভিযােগও অমূলক। ছেলেটি আদৌ খারাপ নয়—অন্তত তত খারাপ নয়। এই বলে তিনি আর একটি স্নিগ্ধ কটাক্ষ ঝাড়েন আমার দিকে।
আমি সলজ্জমুখে ঘাড় হেঁট করে থাকি। আড়চোখে ড্রিলমাস্টারের দিকে তাকাই একবার।
ড্রিলমাস্টার কোনােদিকে চান না, তাকে যেন কেমন একটু বিড়ম্বিতই দেখা যায়।
বেয়ারাটাও ব্রীড়াবনত। ড্রিলমাস্টার থ। থই পান না যেন।
বুঝতে পারেন না যে আজ দশটার সময় ইস্কুলে আসবার আগে তাঁকে কামিজ ইস্ত্রি করতে দেওয়ার কালেই তার কাল হয়েছে। গলদ যা ঘটবার ঘটে গেছে তখনি। কেননা, সেই ফাঁকেই আমি কাম সেরেছি। তার পকেট থেকে আমার আগের চিঠি বের করে সেখানে অন্য চিঠি লিখে রেখেছি। কি করে তিনি তা বুঝবেন? নিজের দিকে-কামিজের দিকে—চিঠির দিকে—কতদিকে চোখ রাখবেন তিনি? নাক নিয়ে যারা নাকাল, চোখের দিক দিয়ে তারা তেমন চোখা হয় না।
এ ধরণের আরো মজার মজার গল্প পড়তে ক্লিক করুন Educational Blogs এবং Subscribe করে পাশেই থাকবেন।

0 মন্তব্যসমূহ